অগ্রবর্তী সময়ের ককপিট
বাংলাদেশ সর্বশেষ

জাতীয় কবি কাজী নজরুলের মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

Kazi

শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৫তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হয়েছে। ১৯৭৬ সালের শোকের মাসের এদিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) তিনি ইন্তেকাল করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়। এখানেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। জাতীয় কবির মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় মসজিদ সংলগ্ন কবির সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পন, আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

জাতীয় কবির মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আজ সকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জাকীর হোসেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনিরুল আলম, যুগ্মসচিব অসীম কুমার দে, বাংলা একাডেমির সচিব এ এইচ এম লোকমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৫ত মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে কবি নজরুল ইনস্টিটিউট  ভার্চুয়াল আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কবি নজরুল ইনস্টিটিউট নজরুলের জীবন, সাহিত্য, সংগীত ও সামগ্রিক অবদান সম্পর্কে গবেষণা পরিচালনা, রচনাবলী সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রকাশ ও প্রচারে কাজ করে যাচ্ছে। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, নজরুল স্মৃতি বিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালের কাজীর শিমলা ও দরিরামপুরকে দর্শনীয় স্থান হিসাবে গড়ে তোলা হচ্ছে। দরিরামপুর বিচুতিয়া বেপারী বাড়িতে নজরুল বিষয়ক জাদুঘর, পাঠাগার ও মিলনায়তন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ বাড়ির কাছেই স্মৃতিধন্য ঐতিহাসিক বটতলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়’।

কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জাকীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আবুল মনসুর এবং কবি পৌত্রী ও কবি নজরুল ইনস্টিটিউট ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য খিলখিল কাজী।

কবি নজরুল ইনস্টিটিউট এ উপলক্ষে আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের আয়োজনে আলোচনা সভা ও নজরুল স্মৃতি বিজড়িত ‘স্মৃতি কক্ষে’র উদ্বোধন করা হয়।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ সালের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাক নাম ‘দুখু মিয়া’। পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মাতা জাহেদা খাতুন। বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে বাংলা সঙ্গীত জগতকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন।

প্রেম, দ্রোহ, সাম্যবাদ ও জাগরণের কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গান শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রামে জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছে। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্য কর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথিকৃৎ লেখক। তাঁর লেখনি জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। তাঁর কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলছে।

সম্পর্কিত খবর

জাতির পিতাকে হত্যার পর রাজনীতি নিষিদ্ধ সত্বেও প্রতিবাদ করেছেন কবিরা: প্রধানমন্ত্রী

gmtnews

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

gmtnews

অবকাঠামো ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাতে স্পেনের বিনিয়োগের আহবান: ডিসিসিআই

gmtnews

মন্তব্য করুণ

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই অপ্ট আউট করতে পারেন। স্বীকার করুন বিস্তারিত