অগ্রবর্তী সময়ের ককপিট
বাংলাদেশ সর্বশেষ

জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ৩ গুণ করতে সম্মতি দিয়েছে ১১৮ দেশ

জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বই অনেক বেশি নির্ভরশীল। কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুতও ফুরিয়ে আসছে। এ অবস্থায় কয়েক বছর ধরেই নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে জাতিসংঘসহ পরিবেশবাদীরা। বৈশ্বিক নানা প্রেক্ষাপট ও আর্থিক সক্ষমতার প্রশ্ন থাকায় বহু দেশ এ বিষয়ে একমত না হলেও এবারের জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে সম্মতি দিয়েছে ১১৮টি দেশ। এই দেশগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষমতা তিন গুণ করবে। দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলন কপ২৮-এর চতুর্থ দিনে গতকাল রোববার ‘গ্লোবাল এক্সিলারেশন ফর ডিকার্বনাইজেশন চুক্তিতে’ স্বাক্ষর করে দেশগুলো। তবে বাংলাদেশ এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ ছাড়া সম্মেলনের একটি সাইড ইভেন্টে বাংলাদেশে টিকা উৎপাদন কারখানা ও সবুজ হাসপাতাল প্রকল্পে বিনিয়োগ করার ঘোষণা দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (জলবায়ু) সঞ্জয় কুমার ভৌমিক সমকালকে বলেন, আমাদের কাছে এ বিষয়ে এখনও কোনো প্রস্তাব আসেনি। সরকারের মাধ্যমে প্রস্তাব এলে শীর্ষ পর্যায় থেকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ চুক্তির উদ্দেশ্য হবে, বিশ্বব্যাপী নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষমতা ২০২২ সালের বর্তমান ৩ দশমিক ৪ টেরাওয়াট থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ১১ টেরাওয়াটে উন্নীত করা। জানা গেছে, প্রতিশ্রুতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে– সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, জাপান, যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো, পোল্যান্ড, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, কেনিয়া, নেদারল্যান্ডস, নাইজেরিয়া ও স্পেনের মতো অনেক দেশ। তুরস্ক, চীন, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা এখনও স্বাক্ষর করেনি। এ ছাড়া ৫০টি জ্বালানি উৎপাদনকারী কোম্পানি এ ডিকার্বনাইজেশন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, যারা বিশ্বব্যাপী ৪০ শতাংশের বেশি তেল ও গ্যাস উৎপাদন করে। এ চুক্তির অংশ হিসেবে মিথেন নির্গমন হ্রাস প্রকল্পের জন্য ১ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশগুলো।

এদিন সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে এক সভায় অংশ নেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের তহবিল সরাসরি শহরগুলোয় পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এর পক্ষে জোর দাবি জানান।

সম্মেলনের চতুর্থ দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাত ১০০ মিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগের (এনটিডি) সঙ্গে লড়াই করার জন্য ৭৭৭ মিলিয়ন ডলারের তহবিলের ভিত্তি তৈরি করেছে। গতকাল অপর এক এজেন্ডায় নিরাপদ পানি সুরক্ষা এবং প্রকৃতি সংরক্ষণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এই প্রথমবারের মতো বিশ্বের ধর্মীয় নেতারা একত্রিত হয়ে জলবায়ুর পরিবর্তন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। দুবাইয়ের কপ২৮ সম্মেলন কেন্দ্রে ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে উদ্বোধন করা হয়েছে ফেইথ প্যাভিলিয়ন। যেখানে সব ধর্মের নেতারা সমবেত হয়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। আল-আজহারের গ্র্যান্ড ইমাম আহমেদ মোহাম্মদ আহমেদ এল-তায়েব ও পোপ ফ্রান্সিস ভিডিওর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে জরুরি পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

গত ৩০ নভেম্বর দুবাইয়ের এক্সপো সিটিতে শুরু হওয়া এই শীর্ষ সম্মেলন ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এতে বিশ্বের প্রায় ২০০ দেশের প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন।
এদিকে সম্মেলনের একটি সাইড ইভেন্টে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতকে রক্ষা করতে সবুজ হাসপাতাল প্রকল্পে বিনিয়োগ করার ঘোষণা দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। পাশাপাশি সরকারিভাবে টিকা উৎপাদন কারখানা তৈরিতেও অর্থায়ন করবে সংস্থাটি। ওয়ার্কিং দ্য টক উইথ ক্লাইমেট অ্যান্ড হেলথ অ্যাকশন শিরোনামে এডিবি আয়োজিত এই ইভেন্টে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক অংশগ্রহণ করেন।

এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ফাতিমা ইয়াসমিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এর পর বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্বাস্থ্য খাতে যে বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে, তাতে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপে বাংলাদেশে ১ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আগে এক-দুই মাসের জন্য ডেঙ্গু দেখা দিলেও এখন তা বছরব্যাপী হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম, ব্রাজিলের জলবায়ু ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. লুইস অগাস্তো গ্যালবো, মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্যাথরিন বউন প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।

সম্পর্কিত খবর

মুজিবনগর সরকারের চারশ’ টাকা বেতনের চাকুরে ছিলেন জিয়া: তথ্যমন্ত্রী

gmtnews

নরওয়েতে নৈশক্লাবে বন্দুক হামলা

gmtnews

ধুঁকে ধুঁকে চলছে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ

gmtnews

মন্তব্য করুণ

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই অপ্ট আউট করতে পারেন। স্বীকার করুন বিস্তারিত